
শিক্ষকের মর্যাদা
একটি আদর্শ ও সুশৃঙ্খল সমাজ বিনির্মাণে শিক্ষকের ভূমিকা অতুলনীয়। ইসলামে জ্ঞান এবং জ্ঞানীর মর্যাদা আকাশচুম্বী, আর সেই জ্ঞান যিনি বিতরণ করেন, তিনিই হলেন শিক্ষক। স্বয়ং বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) গর্বভরে ঘোষণা করেছেন, 'নিশ্চয়ই আমি শিক্ষক হিসেবে প্রেরিত হয়েছি।' (ইবনে মাজা)। ইসলামে শিক্ষকের সম্মান পিতামাতার সমতুল্য করা হয়েছে, কারণ পিতামাতা মানুষকে দুনিয়াতে আসার মাধ্যম হন আর শিক্ষক মানুষকে মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলেন এবং পরকালের পথ দেখান। পবিত্র কুরআনের প্রথম বাণীই ছিল 'ইকরা' অর্থাৎ পড়ো। এই বাণীই প্রমাণ করে ইসলামে শিক্ষার গুরুত্ব কতটা। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাকুল, আসমান ও জমিনের অধিবাসীরা, এমনকি গর্তের পিপীলিকা এবং সাগরের মাছ পর্যন্ত মানুষের কল্যাণকামী শিক্ষকের জন্য দোয়া করে।' (তিরমিযী)। তাই শিক্ষকদের সম্মান করা, তাদের আদেশ-নিষেধ মেনে চলা এবং তাদের সাথে বিনম্র আচরণ করা প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নৈতিক দায়িত্ব। যে জাতি শিক্ষককে সম্মান করতে জানে না, সে জাতি কখনো পৃথিবীতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে না।