
ডিজিটাল দুনিয়ায় গীবত ও পরনিন্দা: সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সতর্কতা
যোগাযোগের আধুনিকায়নের এই যুগে সোশ্যাল মিডিয়া যেমন আমাদের জন্য আশীর্বাদ, তেমনি এটি আমাদের আমলনামা ধ্বংসের একটি বড় ফাঁদও হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে 'গীবত' বা পরনিন্দার মতো ভয়াবহ গুনাহ এখন ড্রয়িংরুমের আড্ডা থেকে সরাসরি ফেসবুক, ইউটিউবের কমেন্ট বক্সে ও চ্যাট গ্রুপে রূপ নিয়েছে। কারো অনুপস্থিতিতে তার এমন কোনো ত্রুটি নিয়ে আলোচনা করা যা শুনলে সে কষ্ট পাবে, সেটাই গীবত। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ একে অত্যন্ত বীভৎসভাবে উপস্থাপন করে বলেছেন, 'তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের মাংস খেতে পছন্দ করবে? বস্তুত তোমরা তা অপছন্দই করো।' (সূরা হুজুরাত: ১২)। আমরা অনেকেই মনে করি, শুধু মুখে বললেই গীবত হয়। কিন্তু ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কারো নামে মিথ্যা বা যাচাই না করে নেতিবাচক কমেন্ট করা, কারো ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে ট্রল করা বা শেয়ার বাটনে ক্লিক করে অপবাদ ছড়িয়ে দেওয়াও গীবত ও নামিমাহ (চোগলখোরী)-র অন্তর্ভুক্ত। রাসূল (সা.) বলেছেন, 'যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের ওপর বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা নীরব থাকে।' (বুখারী)। সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো কিছু লেখার বা শেয়ার করার আগে একবার ভাবুন—এটি আপনার কিয়ামতের দিনের আমলনামা ভারী করছে, নাকি নেক আমল পুড়িয়ে দিচ্ছে।